শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০০ কোটি টাকার তহবিল তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষণা করে দেশের যুবসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই সহায়তা তহবিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। রবিবার ১ নভেম্বর দেশজুড়ে দিবসটি উদ্‌যাপিত হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে সরাসরি পৃথক বাজেট বরাদ্দের দ্বার উন্মোচিত হলো।

সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য এই ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে যুবসমাজ ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে। যেকোনো জাতির সামগ্রিক প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম।

তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তরুণদের অপার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী উদ্যোগ নেন, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়। তৃণমূল পর্যায়ে যুব কার্যক্রম সম্প্রসারণে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সাফল্য বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সফলভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব তরুণের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বা তার চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন। এছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে দিতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে।

জাতি গঠনে যুবসমাজের অনবদ্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রবর্তিত জাতীয় যুব পুরস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর যারা এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছেন, বাণীতে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ে সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা একদিকে নতুন দক্ষতা অর্জন করছেন, অন্যদিকে অনলাইনে কাজ করে দেশে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছেন।

পরিবেশ সংরক্ষণেও তরুণদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় দেশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে যুবসমাজ।

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষাসহ নতুন নতুন উদীয়মান খাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে একটি দক্ষ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। পরিশেষে যুব দিবসের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।