শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

এইচএসসির পাসের হার বাড়াতে কৃত্রিম প্রবণতা বন্ধ হয়েছে,মাহ্দী আমিন

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

এইচএসসির পাসের হার বাড়াতে কৃত্রিম প্রবণতা বন্ধ হয়েছে,মাহ্দী আমিন

উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অতীতে জিপিএ-৫ এবং পাসের হার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এবার লোকদেখানো সংখ্যার পেছনে না ছুটে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং সততার সঙ্গে উত্তরপত্র যাচাইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে ফলাফল হস্তান্তর ও ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উত্তরপত্রের পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাজীবনের সময় বাঁচাতে নেওয়া হয়েছে বড় এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

উপদেষ্টা জানান, এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের যেন একটি বছর নষ্ট না হয়, সেজন্য দ্রুততম সময়ে—সম্ভব হলে আগামী এক মাসের মধ্যেই—পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে উচ্চশিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত হতে পারবে।

জাতীয় ফলাফলের সার্বিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন।

জাতীয় পর্যায়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে থেকে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশে।

মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এবার সর্বমোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনুকূল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালায় এবং সিসি ক্যামেরা ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়।

কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, মেধার স্বীকৃতি পুরো জাতির গর্ব হলেও এই ফল জীবনের একমাত্র মাপকাঠি নয়; যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি সরকার তাদের পাশেও অবিচল থাকবে।