শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,
স্তন ক্যানসার সচেতনতা

স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব

ছবি: সংগৃহীত

স্তন ক্যানসার এখন প্রায় শতভাগ নিরাময়যোগ্য একটি ব্যাধি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে আধুনিক চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে মাসব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপনী ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রচলিত ধারণা ছিল ক্যানসারের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান নেই। তবে বর্তমান বিশ্বে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসাব্যবস্থা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণের সদিচ্ছা এবং প্রাথমিক স্তরে রোগটি চিহ্নিত করাই রোগীদের পুরোপুরি বিপদমুক্ত করার প্রধান শর্ত।

দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদারের সার্বিক নেতৃত্বে স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম দেশজুড়ে তৃণমূল মানুষের মধ্যে প্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছে। রোগ দেরিতে ধরা পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করা এবং শুরুতেই আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসার আওতায় আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। সারা দেশে সফলভাবে পালিত হওয়ার পর আজ এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই আন্দোলনকে বৃহত্তর সামাজিক দায়বদ্ধতায় রূপ দেওয়া প্রয়োজন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূল এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সামাজিক ঐক্য দরকার, ঠিক তেমনি স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধেও সামগ্রিক জনঅংশগ্রহণ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ চিকিৎসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।