অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
পা দিয়ে লিখে এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা অদম্য শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম রাব্বি।
তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। রাব্বি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে। এর আগে ২০২৪ সালে একই এলাকার হাজী তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) অংশ নিয়েও একইভাবে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। হায়াত ছিল বিধায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। আমার ইচ্ছা বিজ্ঞানী হওয়ার। সবার কাছে দোয়া চাই।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন রাব্বি। স্কুলে যাওয়ার পথে অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে তার দুটি হাতই কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন। থমকে যায় একটি সম্ভাবনাময় শিশুর স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি আবার শুরু করেন। প্রথমে মুখ দিয়ে লেখার কসরত রপ্ত করেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় সাফল্য পান। পরে পড়াশোনার গতি আরও বাড়াতে পা দিয়ে দ্রুত লেখার অনুশীলন আয়ত্ত করে ফেলেন রাব্বি।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান জানান, সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর অনেক ব্যক্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসা দিয়ে ছেলেকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির সার্বিক পড়াশোনার আর্থিক ব্যয়ভার বহন করে আসছেন। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষক ওসমান কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই রাব্বিকে কোচিংয়ে পাঠদান করিয়েছেন।
ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার বলেন, রাব্বির এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার অদম্য চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সে কখনো নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করেনি। বরং অন্যরা যা পারে, সেও তা পারবে এমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তার। আজ সেই বিশ্বাস ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। রাব্বির এমন অর্জনে পুরো এলাকা গর্বিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন