শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় উপকূলবর্তী অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ইতিমধ্যে নিম্নচাপে ঘনীভূত হয়েছে। এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঝড়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‍‍`মুরাসু‍‍`। তামিল ভাষায় এই শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ঢোল।

আবহাওয়াবিদদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে সিস্টেমটি উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। এরপর ৩ নভেম্বর সকালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মতো এটি অতটা বিধ্বংসী হবে না।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির মূল কেন্দ্র ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। এই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে একই উপকূলে আঘাত হেনেছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব।

এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করবে। তখন বাতাসের প্রাথমিক গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। পরদিন ২ নভেম্বর বিকেল থেকে অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের বেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটারে পৌঁছাবে, যা দমকা আকারে ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

পরিস্থিতি সবচেয়ে সংবেদনশীল রূপ নেবে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকালের মধ্যবর্তী সময়ে। ওই সময় অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা এবং পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলেও অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলেও ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই ঝোড়ো আবহাওয়া তৈরি হবে। সেখানে ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে ৩ ও ৪ নভেম্বর উড়িষ্যার উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।