বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস

সাগরে সৃষ্ট নতুন লঘুচাপের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতীয় উজান অববাহিকায় আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নদী অববাহিকায় আকস্মিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের প্রধান অববাহিকাগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এই অববাহিকাগুলোতে নদ-নদীর পানি কমার স্বাভাবিক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ গত ২৪ ঘণ্টায় পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আসল ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে দেশের উত্তর জনপদে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন ও পুনর্ভবা নদীর জলস্তর গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও নতুন বৃষ্টির কবলে তা দ্রুত রূপ বদলাতে পারে। পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে আগামী তিন দিন তিস্তা নদীর পানি মারাত্মক দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সাথে ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন ও পুনর্ভবা নদীর পানি আগামী দুই দিন পর্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে দ্রুত বাড়বে। তবে পানি বৃদ্ধির এই ধারা তৃতীয় দিনে গিয়ে পুনরায় কিছুটা স্থিতিশীল রূপ নিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‍‍`অর্ণব‍‍`-এর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার সময় শক্তি হারিয়ে প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপে এবং পরবর্তীতে একটি দুর্বল স্থল নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে এটি ভারতের দক্ষিণ ছত্তিশগড় এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওডিশা অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমে আরও দুর্বল ও শক্তিহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও এর সংলগ্ন জলসীমায় নতুন করে একটি পৃথক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও বন্যা বিশ্লেষকেরা নতুন এই লঘুচাপের সম্ভাব্য বিস্তার এবং উপকূলে এর গতিপথের ওপর কড়া নজর রাখছেন।

যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের সবকটি প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও আঞ্চলিক ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের যৌথ প্রভাবে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে অবনতির দিকে যেতে পারে। এই কারণে বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর তীরবর্তী নিচু অববাহিকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নদীর পানির আকস্মিক ওঠানামার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নদীপাড়ের বাসিন্দাদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।