অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন পথে আবার দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরের কিছু ব্যক্তিও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের আত্মগোপনে থাকতে আশ্রয় দিচ্ছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি অফিসার্স ক্লাবে নিজের সংসদীয় এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি শুনলাম, কালকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। আমাদের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা আসা শুরু করেছেন। আপনারা দয়া করে চোখ-কান খোলা রাখবেন। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
দলের ভেতরের স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, ওদের আশ্রয় দিচ্ছে কারা জানেন? আমাদের বিএনপির কিছু লোক টাকার বিনিময়ে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সবাইকে একযোগে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বিএনপির অভ্যন্তরে এ ধরনের শত্রু আছে, তাদের একযোগে প্রতিহত করতে হবে।’
আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে পার না পায় সে ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, এদের প্রতিহত করতে হবে। আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ লোক বলে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। আমার যে শত্রু, সে বিএনপির শত্রু। আপনাদের যে শত্রু, সে বিএনপির শত্রু। সুতরাং এদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান, দলের ভেতরে কেউ এমন আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রকে জানানো হয় এবং দল অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের তৎপরতা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অনেকেই এখন ভাবছেন, এটা করে ফেলব, ওটা করে ফেলব। আরে ভাই, বিএনপি এখনো মাঠে নামেনি। বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না আপনারা।’
বিরোধী শিবিরের সম্পদ অর্জন ও জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় কীভাবে শত শত কোটি টাকা উপার্জন করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। সদ্য পড়াশোনা শেষ করা কমবয়সী নেতাকর্মীদের রাতারাতি অস্বাভাবিক অর্থবিত্তের মালিক হওয়া নিয়েও তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন।
আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শুনলাম, এদের মুরুব্বিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথ মিটিং করছেন। কীভাবে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়, সেই বুদ্ধি করছেন। আমি বুদ্ধি দিয়ে দিচ্ছি—বিএনপির সঙ্গে পারবেন না। নাকে তেল দিয়ে ঘুমান দুই-চার বছর। বিএনপি যেমন আছে, তেমনই থাকবে। আল্লাহর রহমতে বিএনপি আবারও এ দেশের জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।’
বিকল্প পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানের বিরুদ্ধে আরেক মুসলমানকে দাঁড় করিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কোনো সুবিধা হবে না। কোনো দল যদি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে তাদের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দরবারে যেতে হবে এবং জনগণের ব্যালটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত আসবে।
বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠিত এই ভিত্তিকে সহজে উপড়ে ফেলা যাবে না; এ দেশে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র স্বীকৃত পথ হলো জনগণের ভোট।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন