শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,
জাটকা সংরক্ষণ অভিযান

জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু মধ্যরাত থেকে, ৮ মাস থাকবে কঠোর নজরদারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু মধ্যরাত থেকে, ৮ মাস থাকবে কঠোর নজরদারি

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মধ্যরাত থেকে নদী ও সাগরে জাটকা আহরণের ওপর আট মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত টানা কার্যকর থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এই দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রম মাঠে বাস্তবায়ন করবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের যেকোনো আকারের ছোট ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, পাইকারি ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয় এবং মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে প্রজননক্ষম মা ইলিশের নিরাপদ পরিবেশ রক্ষায় চলতি বছরের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের সফল মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়।

ওই বিশেষ অভিযানে ডিমওয়ালা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রজনন পরবর্তী এই সময়ে ডিম থেকে ফুটে বের হওয়া ইলিশের পোনা তাদের জীবনচক্রের প্রাথমিক পাঁচ থেকে আট মাস উপকূলীয় নদ-নদী এবং মোহনাগুলোতে বেড়ে ওঠে। সামুদ্রিক এই পোনাগুলোকে নির্বিঘ্নে বড় হওয়ার সুযোগ দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে।

আইন অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধন, পাচার বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কমপক্ষে এক মাস থেকে অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সমন্বিত যৌথ অভিযানের ছক চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন।

মৎস্য অধিদপ্তরের সাথে মাঠপর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল পরিচালনা করবে।