অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঊর্ধ্বে দেশের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের কল্যাণই সবচেয়ে অগ্রগণ্য।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আন্দোলনের নামে দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কৌশল গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আন্দোলন করে কি কখনো গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের একমাত্র স্বীকৃত সাংবিধানিক পথ হলো সাধারণ নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন, তাদের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ আগে বিবেচনা করা উচিত। বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে জনগণ সন্তুষ্ট না হলে আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভালো পদক্ষেপ নিলে তার সুফল সরাসরি দেশের মানুষ পাবে। আর জনগণ বিকল্প কিছু চাইলে নির্বাচনের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সংঘাতের রূপ না দেওয়ার তাগিদ দিয়ে চিফ হুইপ একটি বাস্তবমুখী তুলনা টানেন।
তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে হানাহানি হলে তৃতীয় কোনো পক্ষ সেই সুযোগ নেয়। দুই ভাই যখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়ায়, তখন বাইরের সালিশকারী এসে তাদের বিরোধ মেটানোর নাম করে দুজনের সম্পত্তিই হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটে। জাতি বিভক্ত হলে লাভ কেবল তাদেরই, যারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেখতে চায়।
বিগত ৫৪ বছরের জাতীয় ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, অতীতে বহুবার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে জবাবদিহির স্বার্থেই এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
জ্বালানি তেলের বাজার ও সাম্প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, বিশ্ববাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ধাক্কা সামলাতে সরকার বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। অথচ একটি গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ ২০ কোটি মানুষকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্মেলনে উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষ ও কারিগরি মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের সামগ্রিক রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন