অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
দুপুর সোয়া দুইটার দিকে অভিযুক্ত দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি রাজধানীর তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসছে। নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রস্তুতকালে নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও বিভিন্ন গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন নিহত সাউরিকে সাথে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছেন যে নিহত সাউরি তার বয়োজ্যেষ্ঠ পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের তদন্ত আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অভিযুক্ত দীপের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রমাণ বিনষ্ট বা তদন্ত ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য তাকে রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তদন্তকারী সংস্থা রিমান্ড আবেদনের পক্ষে পাঁচটি নির্দিষ্ট কারণ আদালতে উপস্থাপন করে।
এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও মোটিভ উদ্ঘাটন করা, ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা। এছাড়া নিহত সাবেক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার এবং প্রকৃত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই রিমান্ড চাওয়া হয়।
আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ড আবেদনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে একটি হত্যা মামলা করেন তার পিতা কে এম এনায়েতুল করিম। ওই এজাহারের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দীপকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন