অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামলেই যেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে সাইরেন বেজে ওঠে। মৌসুমের শুরুতে আক্রমণভাগে কিছুটা ছন্দহীনতা থাকলেও এখন উড়ছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোসে মরিনিওর অধীনে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এই দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার কেন্দ্রে রয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
গতি ও ক্ষিপ্রতা দিয়ে চলতি মৌসুমে লা লিগার অন্য সব ফুটবলারকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। শুধু স্পেনেই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ঘরোয়া লিগের দ্রুততম দৌড়বিদদের তালিকাতেও তিনি সামনের কাতারে।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন ২৭ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। লা লিগায় এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের পরিসংখ্যানে তার চেয়ে বেশি গতি তুলতে পেরেছেন কেবল বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস, যার রেকর্ড ঘণ্টায় ৩৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। তালিকায় ৩৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার গতি নিয়ে এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিভারপুলের রোনাল্ড আরাউহো, ইন্টার মিলানের মার্কাস থুরাম এবং ওসেরের নাউইরু আহামাদা।
গতিই এমবাপ্পের প্রধান অস্ত্র।
চলতি লিগে ১০ ম্যাচ খেলেই ১১ গোল নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের ২-১ গোলের জয়ে জোড়া গোলও এসেছে তার পা থেকেই। বিশেষ করে প্রতি-আক্রমণে একজন ডিফেন্ডারের সাথে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে শরীর ফেলে তিনি যেভাবে ফাঁকা জায়গায় ছুটে যান, সেখানে পৌঁছানো যেকোনো ডিফেন্ডারের পক্ষেই দুঃসাধ্য।
তবে কেবল দ্রুত দৌড়ানো নয়, কখন গতি বাড়াতে হবে এবং ঠিক কোন মুহূর্তে স্প্রিন্ট শুরু করতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপক্বতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
কোচ মরিনিওর কৌশলে রক্ষণ আঁটসাঁট রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা স্পষ্ট। সেখানে জুড বেলিংহাম, আর্দা গুলের এবং বের্নার্দো সিলভার মতো মিডফিল্ডারদের বাড়ানো দূরদর্শী পাস এমবাপ্পের কাজকে আরও সহজ করছে। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে সতীর্থদের নিখুঁত থ্রু বলের পেছনে যখন তিনি ছোটেন, তখন বিশ্বের খুব কম ডিফেন্ডারই আছেন যারা গতির লড়াইয়ে তাকে আটকাতে পারেন।
বয়স প্রায় ২৮ ছুঁইছুঁই। গতি দিয়ে এখন প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিলেও এমবাপ্পে বুঝতে পারছেন ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে পায়ের এই তীব্র গতি আর আগের মতো নাও থাকতে পারে। সেই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে তাকে খেলায় নতুন মাত্রা ও ভিন্ন কৌশল যুক্ত করতে হবে। বিশ্বের বড় বড় তারকারা বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের কৌশলগত দক্ষতায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেন, এমবাপ্পেও সেই রূপান্তরের পথে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন