সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি সত্যতা মেলেনি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের শিকার হলে জরুরি ভিত্তিতে বিমানে করে বেইজিংয়ে নেওয়া হয় বলে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে বেইজিং কিংবা নয়াদিল্লি কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রপ্রধানের শারীরিক অসুস্থতা, স্ট্রোক কিংবা হাসপাতালে ভর্তির খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এসব দাবিকে যাচাইবিহীন অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করছেন।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট, যা দীর্ঘ সাত বছর পর ছিল তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাণিজ্য নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পাশাপাশি সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত অবসানে ব্রিকস জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে আগামী বছর এই জোটের সভাপতির দায়িত্ব নেবে চীন এবং পরবর্তী ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনও সেখানেই আয়োজিত হবে। কিন্তু সম্মেলন শেষে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেননি, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নৈশভোজে অনুপস্থিতি এবং সম্মেলনের সময় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। নির্বাসিত চীনা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির প্রধান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, সম্মেলনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রেসিডেন্টকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে বেইজিংয়ের ৩০১ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া তার সেই পোস্টটিতে পরে তথ্যগত অসঙ্গতি চিহ্নিত করে কমিউনিটি নোট যুক্ত করা হয়েছে।
বিপরীতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি পোর্টাল গোভ ডট সিএন নিশ্চিত করেছে যে নয়াদিল্লিতে সম্মেলন সফলভাবে সমাপ্ত করে চীনা প্রেসিডেন্ট রবিবার সন্ধ্যায় স্বাভাবিকভাবেই বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একই উড়োজাহাজে দেশে ফিরেছেন এবং তাদের প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপ্রধানের অসুস্থতার কোনো উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য যে এই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দাবির প্রচারক ওয়ানজুন শিয়ে বিদেশে অবস্থান করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল পরিচালনা করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের দাবি জানানো দলটির সদস্যদের সঙ্গে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক বৈরিতা দীর্ঘদিনের।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন