সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১১:২২ এএম
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত করার কঠোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে নেওয়ার পথ সংকুচিত করার পাশাপাশি অস্থায়ী ভিসাধারীদের এক ক্যাটাগরি থেকে অন্য ক্যাটাগরিতে গিয়ে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় প্রেসক্লাবে এই নতুন নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামাতে চায় সরকার। বিদ্যমান অভিবাসন বিধিমালার অধীনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় তাদের ডিগ্রিতে অধ্যয়নকালে স্বামী-স্ত্রী কিংবা পার্টনার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন ও স্তর অনুযায়ী তাদের সঙ্গীর কাজের আইনি অধিকারও নিশ্চিত ছিল।
তবে প্রস্তাবিত নতুন নীতিতে অধিকাংশ দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই এই নির্ভরশীল ভিসা পুরোপুরি বন্ধ অথবা কঠোর শর্তসাপেক্ষে সীমিত করা হবে, যদিও নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সীমিত কিছু ব্যতিক্রম বহাল থাকবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত এক অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর করেছিল অস্ট্রেলিয়া, যার মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ভিসাই ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের অনুকূলে।
দেশটির ভেতর অবস্থান করে পর্যটক বা ভিজিটর ভিসা থেকে শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য ভিসায় রূপান্তর করার প্রবণতা বন্ধে অভ্যন্তরীণ আবেদন প্রক্রিয়াও কঠিন করা হচ্ছে। করোনা মহামারির তীব্র ধাক্কা কাটিয়ে ২০২২ সালে সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীদের আগমন অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পায়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রেকর্ড ৫ লাখ ১৮ হাজার বিদেশি দেশটিতে প্রবেশ করেন, যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালে কমে ৪ লাখ ২৯ হাজারে এবং ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ৩ লাখ ৬ হাজারে নেমে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ আবাসন খাতের সংকট নিরসন এবং নাগরিক অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতেই মূলত এই সংস্কার আনা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সরকার এখন অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন