বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সুদানে স্বর্ণখনি ধসে নিহত ৮২, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

সুদানে স্বর্ণখনি ধসে নিহত ৮২, নিখোঁজ অনেকে

ছবি: সংগৃহীত

সুদানের পশ্চিম করদোফান অঞ্চলে একটি অনিয়ন্ত্রিত স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ৮২ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০ জন। মাটির নিচে ধ্বংসস্তূপে আরও অজ্ঞাতসংখ্যক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আল-জারা নামের ওই খনিতে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করার সময় একের পর এক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। বুধবার সকাল পর্যন্ত মাটি সরিয়ে কয়েক ডজন মৃতদেহ বের করে আনেন সহকর্মীরা। সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভেতরে ঠিক কতজন মানুষ আটকা পড়ে আছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব তাদের কাছে নেই। খনির সুড়ঙ্গগুলো পরস্পরের অত্যন্ত কাছাকাছি তৈরি হওয়ায় একটি অংশ ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আল আমিন সুলাইমান নামের এক স্থানীয় শ্রমিক।

উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা কোনো আধুনিক সুবিধা ছাড়াই কেবল সোনা উত্তোলনের প্রাথমিক ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাথর এবং মাটি সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুদানে প্রচলিত খনন পদ্ধতির আওতায় হাতে তৈরি অনানুষ্ঠানিক খনিগুলোতে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটে। শ্রমিকদের কোনো কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করতে হয় এবং সোনা পরিশোধনে সায়ানাইড ও পারদের মতো মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও প্যারা-মিলিটারি বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ কর্মসংস্থান ধ্বংস করে দিয়েছে। জীবিকার সংকটে পড়ে লাখ লাখ তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ খনিগুলোতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন, আর এই খনিগুলো থেকে উত্তোলিত স্বর্ণ বর্তমান যুদ্ধ অর্থায়নের বড় উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশটিতে সংঘাত শুরুর পূর্বে কারিগরি ও ক্ষুদ্র খনিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তোলিত এই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ধাতুর একটি বড় অংশই সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি ও আল জাজিরা