সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
নারী ও পুরুষের আয়ের বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীরা এখনো পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছেন এবং এই ব্যবধান গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ। এই পার্থক্যের কারণে একজন পুরুষ কর্মী বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন, সমপরিমাণ আয় করতে একজন নারী কর্মীকে অতিরিক্ত প্রায় তিন মাস বেশি কাজ করতে হচ্ছে।
গভীর সামাজিক বৈষম্য ও অবৈতনিক শ্রমের চাপ নারীদের পিছিয়ে রাখছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুলসংখ্যক নারীর যুক্ত থাকা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব আয়ের ফারাক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে অভিবাসী নারীরা প্রায়ই ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। এর বাইরে নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা বেশি পরিবারে অবৈতনিক সেবা ও গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন, যার মধ্যে সন্তান ও প্রবীণদের সেবা অন্যতম।
মাতৃত্বের কারণেও কর্মক্ষেত্রে নারীদের আয়ের গতি কমে যায় এবং সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মজুরির এই ব্যবধান আরও বিস্তৃত হয়। এর সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত, পদোন্নতিতে বৈষম্য এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি শ্রমবাজারে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়ন, শোভন কর্মসংস্থান এবং সমান কাজের জন্য সমান মজুরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি খুবই ধীরগতির।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নীতিমালায় সমমূল্যের কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করতে যৌথ দর-কষাকষি এবং সংগঠন করার স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত সমান মজুরি আন্তর্জাতিক জোট। এই বহুপক্ষীয় জোটটি সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মজুরি ব্যবধান কমানোর সমন্বিত উদ্যোগ পরিচালনা করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন