আগস্ট ৬, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
কথায় আছে যে কোনো বিপ্লবই বিফলে যায় না বা বৃথা যায় না কোনো রক্তদান। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চব্বিশ সালের জুলাই ও আগস্টের রক্তাক্ত বিপ্লবও বৃথা যাবে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় যে বিপ্লব-উত্তর সমাজে একবার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গেলে তা আর পুরোপুরি আগের ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।ইতিহাসবিদরা এই পরিস্থিতিকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আর ফিরে না যাওয়ার বিন্দু বা পয়েন্ট অব নো রিটার্ন বলে অভিহিত করেন।
বিপ্লবের ফলে পুরোনো বন্দোবস্ত ও অনুগত সুবিধাভোগী শ্রেণি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। পরে নতুন কোনো শাসক বা স্বৈরাচার ফেরত এলেও তারা আর পুরোনো শাসন কাঠামো একইভাবে জোড়া লাগাতে পারে না। ফরাসি বিপ্লবের পর চরম রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সমাজে সাম্য ও স্বাধীনতার যে চেতনা প্রোথিত হয়েছিল, তার মৃত্যু ঘটেনি। ১৭৮৯ সালের ওই বিপ্লবের পর ম্যাক্সিমিলিয়ান রোবসপিয়ারের পতন এবং পরবর্তীতে নেপোলিয়নের উত্থান ঘটেছিল।
নেপোলিয়নের পতনের পর ১৮১৪ সালে ফ্রান্সে আবার রাজতন্ত্র ফিরে এলেও সমাজ আগের অবস্থায় যায়নি। বরং ১৮৪৮ সালে আরেকটি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের চিরবিদায় ঘটে এবং একাধিক প্রজাতন্ত্রের পর বর্তমানে জেনারেল চার্লস দ্য গল প্রতিষ্ঠিত পঞ্চম প্রজাতন্ত্র চলছে। একইভাবে ১৯৯২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া আর আগের সেই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনোই ফিরে যায়নি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিগত প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও জেন-জি প্রমাণ করেছে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো ক্ষমতার পতন ঘটাতে পারে। সমাজের গভীরে চেপে বসা ভয়ের সংস্কৃতি চিরতরে ভেঙে গেছে। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশের গতানুগতিক রাজনৈতিক মেরূকরণকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। ভবিষ্যতে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ একইভাবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন