রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পারিবারিক বন্ধনে ফাটল ও বিবাহবিচ্ছেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরকীয়া

রাকিবুল হাসান মুন্না

আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

পারিবারিক বন্ধনে ফাটল ও বিবাহবিচ্ছেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরকীয়া

Ai - ছবি

মানবসভ্যতার সুদৃঢ় সামাজিক ভিত্তি হিসেবে পরিবার গড়ে ওঠে মূলত দাম্পত্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতা এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হলেও আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে এই পবিত্র বন্ধনে ফাটল দেখা দিচ্ছে। এর অন্যতম বেদনাদায়ক বহিঃপ্রকাশ হলো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া।বর্তমানে এই প্রবণতা পারিবারিক আদালতের নথি এবং বিবাহবিচ্ছেদের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পেছনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এই সম্পর্ককে আবেগীয় ও শারীরিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে আবেগীয় পরকীয়া দাম্পত্য ভাঙনে বেশি মারাত্মক ভূমিকা পালন করে। কারণ মানসিক দূরত্বের ফলে সৃষ্ট বিশ্বাসের ভাঙন পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত দুরূহ।

এই সংকটের পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক নানা প্রভাব কাজ করে। দাম্পত্য জীবনে উষ্ণতার অভাব কিংবা জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকে সম্পর্কের বাইরে নতুনত্বের খোঁজ করেন। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পরিচয় গোপন করে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর সুযোগ এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং একাকীত্বও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

নতুন কোনো রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা সাময়িক আনন্দ ও তীব্র রোমাঞ্চ তৈরি করে। তবে এর ফলে একটি সাজানো সংসার মুহূর্তেই ধুলিসাৎ হতে পারে এবং সন্তানদের মনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা ও আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বিবাহবিচ্ছেদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রভাব। 

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মে দাম্পত্য বিশ্বস্ততাকে নৈতিকতার মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়েছে।এই সামাজিক ব্যাধি রোধে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা যোগাযোগ, একে অপরকে সময় দেওয়া এবং পারিবারিক কাউন্সিলিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি। ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি পুনরায় জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।