আগস্ট ৫, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা একটি জাতির রাজনৈতিক গতিধারা সম্পূর্ণ বদলে দেয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তেমনই এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যা কেবল দেশের সীমানার ভেতরে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনোজগকেও গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও প্রবাসীরা দেশের সংকটকালে প্রত্যক্ষ অংশীদারের মতো উৎকণ্ঠিত ও সক্রিয় ছিলেন।
দেশান্তরী হলেও প্রবাসীদের মনোজগতে দেশ সবসময় চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে।প্রবাসীদের কাছে বাংলাদেশ নিছক একটি রাষ্ট্র নয়, বরং তাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্মভূমির মাটি, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নাড়ির এই অদৃশ্য টান কখনো ছিন্ন হয় না। দেশের মানুষ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তখন প্রবাসীরাও মানসিকভাবে সেই সংগ্রামের অংশ হয়ে ওঠেন।
আন্দোলনের দিনগুলোতে আপনজনদের কল্যাণ-চিন্তা এবং স্বদেশের টানে তারা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটিয়েছেন।বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর যোগাযোগের কৃত্রিম বিচ্ছিন্নতা প্রবাসীদের জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছিল।রাষ্ট্র যখন তথ্যপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেয়, তখন মানুষের আশঙ্কা বাস্তবতার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সেই যোগাযোগ-বিচ্ছিন্নতার দিনগুলোতে অসংখ্য প্রবাসী রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন এবং পরিবারের নিরাপত্তার খোঁজ নিতে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি এই গভীর আবেগীয় সংযোগ প্রবাসীদের গণঅভ্যুত্থানের এক অবিচ্ছেদ্য শক্তিতে পরিণত করেছিল। রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলার প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে বিকল্প তথ্যপ্রবাহ তৈরি করা পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তথ্য-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আন্তর্জাতিক মহলে জনমত গঠনে তারা কার্যকর যোগাযোগ-সেতু হিসেবে কাজ করেছেন।বিদেশের মাটিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরেন। চব্বিশের এই গণঅভ্যুত্থান তাই কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না, বরং এটি একটি বৈশ্বিক বাংলাদেশি চেতনার প্রকাশে রূপ নিয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন