সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

শরিফ ওসমান হাদী ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি

ড. মাহরুফ চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য

জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:১১ এএম

শরিফ ওসমান হাদী ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর চিন্তাজগত ছিল বহুমাত্রিক এবং গভীরভাবে বাস্তবতানিষ্ঠ। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রকে কেবল কিছু প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি হিসেবে দেখেননি; বরং ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নৈতিকতাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে উপলব্ধি করেছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটনের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ড. মাহরুফ চৌধুরী তাঁর এক নিবন্ধে হাদীর রাষ্ট্রচিন্তা ও জীবনদর্শনের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।

রাষ্ট্রসংস্কারকে তিনি কেবল সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি, বরং সামাজিক রূপান্তরের বহুমুখী প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।হাদীর রাষ্ট্রচিন্তায় ইতালীয় দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামসি ও ব্রাজিলীয় শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরির মতাদর্শের এক ধরনের বৌদ্ধিক সাযুজ্য ফুটে উঠেছে। 

গ্রামসির মতো তিনিও অনুধাবন করেছিলেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন চিন্তার জগতে, সংস্কৃতিতে ও মূল্যবোধে পরিবর্তন আনা। রাষ্ট্র কেবল আইন বা প্রশাসনের যান্ত্রিক কাঠামো নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নৈতিক বোধের সমষ্টিগত প্রকাশ বলে তিনি মনে করতেন।

একজন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তাঁর বক্তৃতা কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং তা ছিল সংকটের কাঠামোগত কারণ বিশ্লেষণের দলিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, কাঠামোগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না তুললে ব্যক্তিগত সততা বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে না। 

তাঁর এই চিন্তাধারা তরুণ প্রজন্মকে কেবল রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রবিনির্মাণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখতে শিখিয়েছে।ব্যক্তিগত উন্নতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। 

শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা অনিবার্য। তাঁর আদর্শ ও চেতনার পথ ধরে ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আজ তরুণ প্রজন্মের মূল দায়িত্ব। ইতিহাস বলে, ব্যক্তিকে হত্যা করা গেলেও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও আদর্শকে ধ্বংস করা অসম্ভব।