সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দ্বন্দ্ব এবার পৃথিবীর ভৌগোলিক ও বায়ুমণ্ডলীয় সীমানা ছাড়িয়ে চাঁদের মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ পেরিয়ে এবার চাঁদের আশপাশের মহাকাশ অঞ্চলকেও সরাসরি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে পেন্টাগন। মহাকাশে ইতিমধ্যে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক অস্ত্র মোতায়েনের তথ্য স্বীকার করে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, দূর মহাকাশ ও চাঁদের কক্ষপথে যেকোনো সশস্ত্র সংঘাত মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করছে পরাশক্তিগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায় ওয়াশিংটনের বাইরে আয়োজিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে। সেখানে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের এই নতুন ফ্রন্ট সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন।
জেনারেল গ্যাগননের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন দ্রুতগতিতে মহাকাশে সামরিক উপস্থিতি বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতের সংঘাতকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন মহাকাশ স্বার্থ সুরক্ষা করাই স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্ব। এর কয়েক দিন আগেই মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন যে তাদের দেশ কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ইতিমধ্যে মহাকাশে মোতায়েন সম্পন্ন করেছে।
ভবিষ্যৎ সংঘাত সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেদের স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা কার্যকর করছে ওয়াশিংটন, যার সিংহভাগ সেনাই নিযুক্ত থাকবে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা সংক্রান্ত কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো পরাশক্তিগুলো মহাকাশের কৌশলগত অঞ্চলে বহুমুখী সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তোলে বেইজিং এবং তাদের মহাকাশভিত্তিক যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর কড়া নজর রাখছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
অন্যদিকে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েন এবং সামরিকীকরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, বেইজিং সবসময় মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রেখে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের পক্ষে এবং ওয়াশিংটনকেই মহাকাশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক নীতি ১৯৬৭ সালের বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তির মৌলিক অঙ্গীকারকে সরাসরি আঘাত করছে, যেখানে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। তাছাড়া রাশিয়াও পৃথকভাবে মহাকাশভিত্তিক সমরাস্ত্র তৈরি করছে বলে মার্কিন প্রতিবেদনে দাবি করার পর বৈশ্বিক মহাকাশ নিরাপত্তা ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন