সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছে ইরানের এই সরকারি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।
আয়োজক দেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনেই ওয়াশিংটন এই ভিসা ইস্যু করল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদলকে এই অধিবেশনে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এবার প্রতিনিধিদলের মোট সদস্যসংখ্যা কঠোরভাবে সীমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিলাসপণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। মার্কিন প্রশাসনের বিদ্যমান পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।
জাতিসংঘের একাশি-তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত অবসানের কোনো সুস্পষ্ট পথ এখনও তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়া নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় বিশ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। এই জলপথটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত অবসানের দিকে এগোচ্ছে। এমনকি তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি গোপন আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে বাস্তবে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে হুথি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনো পুরোদমে চলছে। উত্তেজনাকর এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণকে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন