সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম জিন্নাহ পুঞ্জা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেন যে জিন্নাহর পূর্বপুরুষরা হিন্দু ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ছাত্র সমাবেশে সাবেক এই নেতার বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তান সৃষ্টির পটভূমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সংগ্রহশালায় সম্প্রতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহর আদি নিবাস ছিল ভারতের গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ ব্যবসায়ী পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল। সেখানকার রেওয়াজ অনুযায়ী যারা মাছের ব্যবসা করতেন তাদের পুঞ্জা নামে অভিহিত করা হতো। সেই সূত্রে তার প্রকৃত পারিবারিক নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা এবং তিনি ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু ছিলেন বলে দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।
জিন্নাহর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের রূপান্তর ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লখনৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর ১৯২৯ সালে তার ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৪ দফার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ একাধিক সাংবিধানিক অধিকারের দাবি।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন বাঙালি নেতাদের ভূমিকার মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বাঙালিরা সবাই মিলেই তৈরি করেছিল এবং সেই ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে রাষ্ট্র গঠনের পর যখন দেখা যায় যে পাকিস্তান সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করছে না, তখনই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন