শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ইয়েমেন যুদ্ধ উত্তেজনা

ইয়েমেনে ত্রিমুখী ভয়াবহ সংঘাতে ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

ইয়েমেনে ত্রিমুখী ভয়াবহ সংঘাতে ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬৩

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুই প্রদেশে সরকারি সেনাবাহিনী, সৌদি বিমানবাহিনী এবং সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে ২৪ ঘণ্টার তীব্র সংঘাতে অন্তত ৬৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ২৩ জন ইয়েমেনি সেনা সদস্য এবং ৪০ জন হুথি যোদ্ধা রয়েছেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হুথিদের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর ২৩ সদস্য নিহত হন। 

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং সামরিক বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে ৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিদ্রোহী সূত্র। চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করে হুথিরা। পরবর্তী সময়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত বাব এল মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। 

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে বাব এল মান্দেব পথেই নিজেদের প্রধান জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রেখেছিল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় গভীর নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে রিয়াদ। সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিমান অভিযান শুরু করে সৌদি বিমানবাহিনী। হুথিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সৌদি জোটের যুদ্ধবিমানগুলো একশ ত্রিশটির বেশি বিমান হামলা পরিচালনা করে। 

তীব্র এই সামরিক সংঘাতের মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি তোলে হুথি যোদ্ধারা। ঘটনার একটি স্থিরচিত্র ও ফুটেজে বিধ্বস্ত বিমানের চারপাশে জড়ো হয়ে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হুথিদের প্রতিহত করতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় এই মুহূর্তে সৌদি আরবকে বাড়তি কোনো সামরিক সহযোগিতা দেওয়া ওয়াশিংটনের পক্ষে সম্ভব নয়।