সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষের জন্য ঐচ্ছিক পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশিকা জারি হলে ফ্যামিলি কার্ডধারী ছাড়া সাধারণ ক্রেতারাও নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির সাবান, গুঁড়ো সাবান, লন্ড্রি সাবান, লবণ, চা, আটা ও মসলা কিনতে পারবেন। ডিলাররা কার্ডধারীদের এসব পণ্য কিনতে বাধ্য করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সরকারের অনুমতি নিয়ে টিসিবি জরুরি প্রয়োজনে পেঁয়াজ ও আলুর মতো পণ্যও তালিকায় যোগ করতে পারবে।
নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের সব পরিপত্র বাতিল হয়ে যাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করতে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে পাঁচ কেজি চাল পাবেন। রমজান মাসে ছোলা ও খেজুর যুক্ত থাকবে। ভর্তুকির চাপ কমাতে যুক্ত করা অতিরিক্ত পণ্যগুলো কার্ডধারীদের জন্য ঐচ্ছিক থাকবে।
কার্ড বিতরণে সমাজের প্রকৃত হতদরিদ্র, দিনমজুর, ভূমিহীন, কৃষি ও চা শ্রমিক, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অসচ্ছল ও কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা বা প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে সরকারি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এই কার্ড পাবেন না।
একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে কার্ড দেওয়া যাবে না। কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
সুবিধাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজস্ব নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে সেবা অ্যাপের তথ্যভাণ্ডারে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। কার্ড হারালে নির্ধারিত ফি দিয়ে পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ডিলারদের দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা ও ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পণ্য হস্তান্তরের সময় পয়েন্ট অব সেল যন্ত্র বা স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করতে হবে। টিসিবি নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমার পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই শেষে গুদাম থেকে পণ্য খালাস করা যাবে।
অনিয়ম ঠেকাতে সিটি করপোরেশনে মেয়র, জেলায় জেলা প্রশাসক, উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বহুমুখী তদারকি কমিটি থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত ট্যাগ টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য খালাস ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিক্রয়কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন