শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১০:০১ এএম

আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবং নিত্যপণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর রমজান মাস এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ ভোক্তারা যাতে এই ধরনের অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়েন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়, সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং তিন হাজার ৩০০ টন খেজুর ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিম্ন আয়ের কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে সংস্থাটির প্রায় ৭৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী রয়েছে, যা বাড়িয়ে আগামী রমজানে ৮৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কার্ডধারীর পাশাপাশি ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝেও ন্যায্যমূল্যে এসব পণ্য সরবরাহ করা হবে। বাৎসরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রমজান মাসে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন, চিনির চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন এবং খেজুরের চাহিদা প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে দেখা গেছে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সিন্ডিকেট চক্র সুযোগ বুঝে কৃত্রিম সংকট তৈরি করত। পরে কিছু লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও কার্যকর শাস্তির অভাবে চক্রটি বারবার পার পেয়ে যেত। ক্যাবের পক্ষ থেকেও আমদানি ও মজুত ব্যবস্থাপনায় কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এ বিষয়ে জানান, রমজানে দেশে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য সরকার শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।