অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
রংপুরের বহুল আলোচিত চার খুনের ঘটনায় আটক দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের সাথে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতের পূর্ণ মিল পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে ডোপ টেস্টসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষাতেও উদ্ধার করা আলামতের সাথে তাদের নমুনার সাদৃশ্য পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকরা ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর কাছ থেকে বিভিন্ন জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ওই নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঢাকায় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা বিভিন্ন বস্তুর সাথে সংগৃহীত নমুনার হুবহু মিল ধরা পড়ে।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর খুনিরা ওই বাড়িতে বসে খেজুর, শসা ও বিড়ি খেয়েছিল। তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে সেসব অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্য ও সামগ্রী জব্দ করে ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায়।
এর পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ছোট-বড় আরও ৩৫টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
সিআইডির ল্যাবরেটরি থেকে জানানো হয়েছে যে উদ্ধার করা সব আলামতের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এখনো তদন্তকারী দলের হাতে পৌঁছায়নি। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথি পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে পুলিশ।
ডিবি উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, সব আলামতের সাথে এই দুজনের নমুনার মিল পাওয়ায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তকারীদের মনে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি দাবি করেন, এরাই যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা পরীক্ষার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা বিভিন্ন সময় উসকানি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, বৈজ্ঞানিক ফলাফলের পর তাদের সেই সুযোগ আর থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব রশিদ জানান, ফরেনসিক পরীক্ষার সব রিপোর্টই তাদের দাবির পক্ষে এসেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিরা যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
মামলার তদন্তের শেষ ধাপের কাজ দ্রুত গুটিয়ে এনে খুব শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কমিশনার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন