সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে জুমার নামাজের সময় মসজিদের কাছে গাড়ি বোমা হামলা, দ্বিতীয় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি মানুষ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কোহাটের পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এই সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটে। কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ১৬টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহতকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার পর বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়।
আইজি জুলফিকার হামিদ আরও জানান, পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেই স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রতিরোধ অভিযানে পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা লোহার দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মনোবলে কোনো ধরনের চিড় ধরাতে পারবে না। নিহতদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং হামলাকারীসহ তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগীদের এর কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
শক্তিশালী বিস্ফোরণের অভিঘাতে নিকটবর্তী মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছাদ সংলগ্ন একটি সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুরোদমে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজের স্বার্থে হামলার পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সমন্বিত এই হামলার পর পুরো কোহাট শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয় জানিয়েছে, কোহাটের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে সার্বিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছেন পুলিশপ্রধান। বিস্ফোরণের ধরন ও হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল মাঠে তদন্ত চালাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন