সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন আরও জনবান্ধব ও দ্রুত করতে নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মোট এক হাজার ৫৭ কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেনের এই অঙ্ক ছিল ৯৫৯ কোটি টাকা। ডিজিটাল পরিশোধ ব্যবস্থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে যেকোনো অঙ্কের কিউআর পেমেন্টের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের ব্যাংক হিসাবে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাপের হোমপেজে ব্যবহারকারীর বৃদ্ধাঙ্গুলির সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে বাংলা কিউআর আইকন স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
গ্রাহকসেবা সহজ করতে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসছে আগামী মাসেই।
সার্কুলারে জানানো হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যানের সুবিধার পাশাপাশি সংরক্ষিত কিউআর কোডের ছবি আপলোড করেও মূল্য পরিশোধের বিকল্প যুক্ত করতে হবে। এছাড়া ব্যাংক কার্ডধারী ছাড়াও সব ধরনের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের সাধারণ গ্রাহকেরা যাতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন থেকে সরাসরি বাংলা কিউআর স্ক্যান করে বিল বা কেনাকাটার খরচ মেটাতে পারেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাগজের নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে নগদ লেনদেনে কর ফাঁকি ও অননুমোদিত আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব ঝুঁকি ও ব্যয় কমাতে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে সব ধরনের কোডভিত্তিক পরিশোধে একক বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে দোকান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে যেকোনো একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড টানানো থাকলে যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহক সেখান থেকে সরাসরি সেবা নিতে পারছেন।
বাধ্যতামূলক ঘোষণার পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মে আর্থিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে বাড়ছে। গত জুলাই মাসে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। আড়াই মাসের মাথায় সেপ্টেম্বর নাগাদ সেই দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি টাকায়। নতুন নিয়মগুলো পুরোদমে কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যাশলেস লেনদেন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন