সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আগে মানবশরীর প্রায়ই নানা ধরনের সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার সপ্তাহখানেক আগেই বুকে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো প্রাথমিক উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে পারে। এসব পূর্বলক্ষণ সময়মতো শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে মারাত্মক পরিণতি এড়ানো সম্ভব।
২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ২৪২ জন রোগীর মধ্যে ১০০ জনের ক্ষেত্রে মূল জটিলতার আগে কিছু মৃদু বা প্রাথমিক উপসর্গ বিদ্যমান ছিল। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৮ শতাংশই হার্ট অ্যাটাকের আগে মূল উপসর্গ হিসেবে বুকে ব্যথা অনুভব করেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে হৃদরোগের সবচেয়ে সাধারণ পূর্বলক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
একই গবেষণায় দেখা যায় যে প্রাথমিক উপসর্গ থাকা রোগীদের ৪৪ শতাংশই বুকে ভারী ভাব, অতিরিক্ত চাপ কিংবা আঁটসাঁট অনুভূতি প্রত্যক্ষ করেছেন। এই সমস্যাগুলো মূলত শারীরিক পরিশ্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বাড়ে। প্রাথমিক লক্ষণ থাকা অংশগ্রহণকারীদের ৪২ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক বুক ধড়ফড় করার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। হৃদস্পন্দন হঠাৎ দ্রুত বা খুব সজোরে স্পন্দিত হলে অথবা মাঝেমধ্যে স্পন্দন বাদ পড়ার মতো অনুভূতি তৈরি হলে এমনটি ঘটে থাকে।
শ্বাসকষ্ট বা ডিসপনিয়া হৃদরোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়। হাঁটাচলা করার সময়, দৈনন্দিন শারীরিক কাজ করার ক্ষেত্রে কিংবা পুরোপুরি বিশ্রামে থাকা অবস্থাতেও শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মনে হতে পারে ফুসফুস পর্যাপ্ত বাতাস গ্রহণ করতে পারছে না। বুকে অনবরত জ্বালাপোড়া করা আসন্ন হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি সম্ভাব্য সংকেত। হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে সৃষ্ট বুকের এই জ্বালাপোড়া সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা বুকজ্বালার অনুভূতির সাথে মিলে যেতে পারে। কোনো কারণ ছাড়া শরীরে অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভূত হলে তা মারাত্মক ঝুঁকির নির্দেশক হতে পারে। হার্ট সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যার ফলে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা মাথা হালকা অনুভূত হতে পারে।
পেটের ভেতর তীব্র অস্বস্তি, বমি ভাব এবং সরাসরি বমি হওয়াও হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক উপসর্গ থাকা রোগীদের প্রায় ২৩ শতাংশই উদ্বেগে ভুগেছিলেন, যা রোগের সার্বিক অবস্থাকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। মানসিক চাপ কিংবা ক্যাফেইন গ্রহণের বাইরে কোনো কারণ ছাড়া নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাও হার্ট অ্যাটাকের সতর্কবার্তা। বিশেষ করে রাতে শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে শরীরে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে শিরার মধ্যে তরল জমে পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কেবল বুকের নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই তীব্র ব্যথা হাত, পিঠ, চোয়াল বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তা আক্রমণের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হতে পারে।
মানবদেহের হার্টে রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীর মূলত এই সতর্কবার্তাগুলো তৈরি করে। হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে চর্বিযুক্ত কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম এবং প্রদাহজনক কোষ জমে প্লাক গঠন করে। এই প্লাক হঠাৎ ফেটে গেলে ধমনীর ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ পুরোপুরি থমকে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক ঘটায়। হার্ট অ্যাটাকের ঠিক পূর্বমুহূর্তে বুকের মাঝখানে বা বাম পাশে কয়েক মিনিট স্থায়ী তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। একই সাথে হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হালকা মাথা ঘোরানো, অ

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন