সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ক্লান্তি যেন আধুনিক মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনন্দিন এই ক্লান্তি কাটাতে ও নিজের যত্ন নিতে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান, ভারী ব্যায়াম কিংবা নানা জটিল অনুশীলনের কথা ভেবে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভালো থাকার জন্য সবসময় লম্বা সময় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের কিছু সহজ অনুশীলনই মন ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে জাদুকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ছোট ও কার্যকর অনুশীলনগুলোকে ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ বলে অভিহিত করেছেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ছোট অনুশীলন দিয়েই কমিয়ে ফেলা সম্ভব মানসিক ক্লান্তি। প্রতিবেদনে মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বেশ কিছু সহজ মাইক্রোপ্র্যাকটিসের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো হাসির অনুশীলন বা লাফটার যোগ। কোনো ধরনের কৌতুক বা হাসির উপলক্ষ ছাড়াই এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে হাসার অনুশীলন করতে হয়।
প্রথমে বিষয়টি কৃত্রিম মনে হলেও কিছুক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার পর তা স্বাভাবিক হাসিতে রূপ নিতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এ ধরনের কৃত্রিম হাসিও মানবদেহের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমাতে দারুণ সহায়ক। তিনবার গভীর শ্বাস নিয়ে ‘হি হি হি’ বা ‘হা হা হা’ ধ্বনিতে ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়িয়ে এই অনুশীলন করা যায়। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের সামনে একটানা বসে কাজ করার ফলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে কাজের ফাঁকে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মাইক্রো যোগ বা হালকা শারীরিক প্রসারণ বেশ উপকারী।
দুই হাত পেছনে নিয়ে আঙুল জড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বুক সামান্য উঁচু করা এবং ছাড়ার সময় শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার এই ছোট্ট প্রক্রিয়াটি কাজে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া উদ্বেগের মুহূর্তে মাত্র তিনবার ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো সহজ কৌশল শরীরকে দ্রুত শান্ত করতে সাহায্য করে। প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে ধীরে শ্বাস নিয়ে তার চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ সময় নিয়ে তা ছেড়ে দিলে মনোযোগ ও শিথিলতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিজেকে স্পর্শ করে শান্ত করা বা সেলফ-সুদিং মানসিক চাপ হ্রাসে অত্যন্ত কার্যকরী আরেকটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। হাত দিয়ে নিজের বুক বা বাহু আলতোভাবে স্পর্শ করে সহানুভূতিশীল হওয়ার এই চর্চা স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সবগুলো অনুশীলন একসঙ্গে করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং নিজের জীবনযাত্রার গতির সাথে মানানসই যেকোনো একটি উপায় বেছে নিয়ে নিয়মিত চর্চা করাই মূল কথা। কাজের ফাঁকে সামান্য হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া কিংবা কয়েক মুহূর্ত নিজের মনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো ছোট বিরতিও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন