সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
চীনসহ সমগ্র এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চিকিৎসাক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট চারটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র প্রস্তাব করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চীনের হাইকোতে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বা বিএফএ গ্লোবাল হেলথ ফোরাম ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো হলো ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্থ বার্ধক্য এবং আঞ্চলিক টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।
ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সমন্বিত অংশীদারত্বের ওপর নির্ভরশীল। সম্মেলনের মূল অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব ওষুধ শিল্প বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের উৎপাদিত ওষুধ এখন বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের গুণগত মানের ওষুধের জন্য চীনের সুবিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সক্রিয় ওষুধ উপাদান বা এপিআই উৎপাদন, চিকিৎসা প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধুনিক স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণে চীনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জটিল রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও সমন্বিত চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অনকোলজি, রোবোটিক সার্জারি, প্রিসিশন মেডিসিন, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। এই আধুনিক রূপান্তরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ব্যবসায়িক ও কারিগরি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এশীয় অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এই মহাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আধুনিক পুনর্বাসন সেবা, বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা ও প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধে আঞ্চলিকভাবে যৌথ উদ্যোগে টিকা গবেষণা, বাণিজ্যিক উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, এশিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পারস্পরিক কতটা আন্তরিকভাবে উদ্ভাবন ও যৌথ দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারছে তার ওপর। এই আন্তর্জাতিক আলোচনায় চীনের চতুর্দশ জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিসর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন