সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
মাদকের গডফাদার বা কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি সরকারি দল বা বিরোধী দলের যে অবস্থানেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় নিতে কোনো দ্বিধা থাকা চলবে না। মঙ্গলবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আইন প্রয়োগে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত সহ্য করা হবে না। আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রভাবশালী নেতা যদি অপরাধীকে বাঁচাতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন, এমনকি তিনি নিজে যে দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেই বিএনপিরও কেউ হন, তবুও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ আপসহীন মনোভাব দেখাতে হবে। অপরাধে যুক্ত থাকলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা পুলিশের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত কাউকে জামিন দিলে সেটি বিচারিক বিষয়, কিন্তু পুলিশ কাউকে বাইরে নির্বিঘ্নে অপরাধ করতে দেবে তা হতে পারে না।
নিজের সংসদীয় এলাকার একটি বাস্তব ঘটনার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পুলিশ তাকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আটকের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় মাদক সেবনের প্রমাণ মেলায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাজনৈতিক কর্মীদের নৈতিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী হলেও মাদকাসক্ত বা অপরাধীর কোনো স্থান রাজনীতিতে হতে পারে না।
বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সুরক্ষায় সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১০ জন অপরাধীর দলীয় পরিচয়ের কারণে হাজার হাজার মানুষ কোনো রাজনৈতিক দলকে অপছন্দ করবে—সরকার এমন দায়ভার কখনোই বহন করবে না। আদালতের জামিন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর আদালতের নিজস্ব এখতিয়ার হলেও কেউ যদি অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে জামিন প্রভাবিত করার কিংবা ঠেকানোর চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সে সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে চার হাজারের বেশি বিরোধী নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুমের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ৭০০ নেতাকর্মীকে চিরতরে গুম এবং অগণিত মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জর্জরিত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আইনজীবী সমিতি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন