সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট কাটা শেষে কৃষকেরা এখন নদনদী ও বিভিন্ন জলাশয়ের জাগ থেকে পাট তুলে আঁশ ছাড়ানো এবং রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় বাজারে সোনালী এই আঁশের ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষিদের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা যাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে পাটের পাশাপাশি পাটখড়িতেও বাড়তি আয় হচ্ছে। জীবননগর পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের পাটচাষি শিপন জানিয়েছেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন এবং প্রতি বিঘায় গড়ে অন্তত ১০ মণ করে ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এলাকার বিভিন্ন জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো বিপাকে পড়তে হয়নি। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যার মধ্যে ভালো রঙের আঁশ আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার আরেক চাষি জসিম জানান, নদীতে জাগ দেওয়া পাট ধুয়ে পরিষ্কারের কাজ চলছে। পাটের পাশাপাশি জ্বালানি ও বেড়ার কাজে ব্যবহৃত পাটখড়ির চাহিদাও এবার তুঙ্গে। প্রতি আঁটি পাটখড়ি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং মণ হিসাবে তা মিলছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এমনকি অনেকে জলাশয় থেকেই পাট ধুয়ে আঁশ ছাড়িয়ে দিয়ে পাটখড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে কৃষকদের মজুরি ও উৎপাদন খরচ কমে গিয়ে সার্বিক মুনাফা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে মোট ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা, নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শের ফলেই কৃষকেরা এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন