সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্যাস সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্যাস ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, জ্বালানি খাতের ওপর থেকে চাপ কমাতে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে মোট তিনশটি নতুন কূপ খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করছে সরকার।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন তাঁর বক্তব্যে জানান, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১৫০টি নতুন কূপ খননের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫০টি নতুন কূপ খনন করা হবে, যার মাধ্যমে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজির খালাস সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে মোট পাঁচটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এমনকি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিশ্বখ্যাত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি সক্ষমতা ও রিফাইনিং খাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি বড় ধরনের একটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্রিডে স্থগিত থাকা ১ হাজার ৪৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুনরায় সফলভাবে সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা দেশের সার্বিক লোড ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন