সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
রাষ্ট্রপরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে বর্তমান সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত এক মাসের বহুমুখী কল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞ ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন খাতের অর্জিত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সরকারের সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জানানো হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে গত ছয় মাসের ধারাবাহিকতায় গত এক মাসেও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আজকের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বড় সুখবর হিসেবে জানানো হয় যে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংস সংস্থা মুডিস-এর মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান নেতিবাচক থেকে উন্নীত হয়ে `স্থিতিশীল` অবস্থায় পৌঁছেছে।
এর ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম কমায় সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে স্পষ্ট স্বস্তি ফিরেছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় জ্বালানি তেলে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিয়ে জনগণের ওপর থেকে চাপ কমানো হয়েছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। দেশব্যাপী তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতি বছর পাঁচ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রারম্ভিক মূলধন সহায়তা দেওয়া হবে।
পাশাপাশি জামানতবিহীন ডিজিটাল `ই-লোন` সুবিধা এবং সাইবার সুরক্ষায় `সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম` চালু করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বিনামূল্যে সুষম দুপুরের খাবার চালুর রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় পে স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্তদের নিট পেনশন একশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং তাঁদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমি প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদে একই কর্মস্থলে পদায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সম্পত্তি দান করার পরেও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল নিশ্চিত করতে সুরক্ষা আইন পাস করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তির পুনর্বাসনে চীনের ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ২০ তলা ভবনে বিনামূল্যে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট সমাধানে মধ্যমেয়াদে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টোটাল এনার্জিসের মাধ্যমে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম রিফাইনারি সম্প্রসারণে এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জন্য সুলভে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্র্যাফিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং মহাসড়কে ক্যাশলেস স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয়, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ `জুলাই ফাউন্ডেশন`-এর মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ৭৪ জন শহীদের পরিবারের হাতে স্থায়ী নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।
প্রশাসনিক আড়ম্বর কমাতে সরকারি নথিপত্রে `মহামান্য` বা `মাননীয়` সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার এবং থানাসমূহকে শতভাগ `জিরো কমপ্লেইন্ট` সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে প্রেস টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে `সবার আগে বাংলাদেশ` এই মূল মন্ত্রকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন