বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের চার্জশিট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের চার্জশিট

ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও শত শত কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ৭৩৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য মিলেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্বনামে এবং বেনামে সর্বমোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জিত হয়েছে। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদ দিলে নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। 

ফলে তাঁর মোট আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদ এবং তাঁর নিকটবর্তী তিনজন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার সম্পদের হদিশ পাওয়া গেছে। বেনামি সম্পদ ও শেয়ার হোল্ডিংয়ের সাথে জড়িত এই তিন ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, যাঁর নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকার সম্পদ রয়েছে; যার মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকে ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর অন্তর্ভুক্ত। 

এছাড়া ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার বড় একটি অংশ ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার। অপরদিকে কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে রয়েছে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ, যার মধ্যে ব্যাংকটির ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচার ও সন্দেহজনক লেনদেনের চিত্রও উঠে এসেছে দুদক চার্জশিটে। তদন্তে দেখা যায়, আনিসুল হক এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা করা হয়েছে এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছে।

এই ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিটে আনিসুল হকের পাশাপাশি তাঁর তিন আত্মীয়কেও আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদক ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিগত ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই সাবেক এই মন্ত্রী কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।