শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি কাদেরের ঘোষিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি কাদেরের ঘোষিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পাশাপাশি তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদালতের এই আদেশের পর আলোচনায় এসেছে তাঁর রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদের পরিমাণ।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির চরম দণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন। একই সাথে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন আদালত।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় তাঁর ঘোষিত সম্পদের তথ্য উঠে আসে। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে ওবায়দুল কাদের যে আনুষ্ঠানিক হলফনামা দাখিল করেছিলেন, তাতে তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষিত মূল্য ছিল প্রায় তিন কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ট্রাইব্যুনালের আদেশ কার্যকর হলে তাঁর এই ঘোষিত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ সরাসরি বাজেয়াপ্তের আওতায় চলে যাবে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় তিন কোটি ২৩ লাখ টাকা। সে সময় তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল ৮০ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত হিসেবে জমা ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা এবং সরকারি সঞ্চয়পত্রে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ির বিবরণ দিয়েছিলেন। এছাড়া দেড় লাখ টাকা মূল্যের ২৫ তোলা সোনা, নয় লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং আট লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র থাকার বিবরণ নথিতে উল্লেখ করা হয়।

স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ওবায়দুল কাদের ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির মালিকানা প্রদর্শন করেছিলেন, যার সরকারি অর্জন মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫১ লাখ টাকা। বার্ষিক আয়ের বর্ণনায় তিনি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও দোকান ভাড়া বাবদ ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৯২৪ টাকা এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ছয় লাখ ৯৭ হাজার ২৮৪ টাকা আয়ের হিসাব দেন। সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি সম্মানী থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বই ও পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে বছরে চার লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই আদেশেও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছিল।