বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল

রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি ভবনে কথিত জঙ্গি অভিযানের নামে নয় তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ সময় চেয়ে আবেদন জানান। এই আবেদনে প্রসিকিউশন পক্ষ কোনো আপত্তি না জানালে বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ এবং মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।

মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মামলার বাকি ছয়জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্য পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে শুরু হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থল ও অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

তিনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো এবং কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে সাজানো অভিযানের মাধ্যমে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হবে। প্রথম ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়। পরবর্তীতে আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালেই মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ফলে ট্রাইব্যুনাল-২-এ পুনরায় উভয় পক্ষকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করতে হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরবর্তীতে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির আইনি প্রতিনিধিত্বের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি ভবনে জঙ্গি আস্তানার দাবি করে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামের সেই সশস্ত্র অভিযানে নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাইব্যুনালে এ বিচারিক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।