অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৫ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমেছে। এর আগের কার্যদিবসে পণ্যটির দাম প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর শূন্য দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৭০ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই ডলারের বেশি বেড়ে যায়।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন উল্লেখ করেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে প্রত্যাশার চেয়েও ফেডারেল রিজার্ভের অতিরিক্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের ঝুঁকি স্বর্ণের দামের ওপর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক চাপ তৈরি করছে।
জ্বালানির চড়া দর দীর্ঘ মেয়াদে সুদের হার উঁচু থাকার সম্ভাবনাকে উসকে দেয়। এতে সুদবিহীন বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ নিজের কাছে ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা বুলিয়ন বাজারের সার্বিক দরে নিম্নমুখী প্রভাব ফেলে।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ছয়টায় সুদহার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের। বাজার বিশ্লেষকদের অধিকাংশের পূর্বাভাস হলো, এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসের বৈঠকে সংস্থাটি সুদহার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন চালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
মূল্যস্ফীতির চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে দৃষ্টি রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। মূল্যস্ফীতি মূল্যায়নে ফেডারেল রিজার্ভ এই সূচকটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়, যেখানে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা দুই শতাংশ।
স্বাধীন আর্থিক বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস জানান, ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে ইতিবাচক হলে এবং ফেড যদি প্রত্যাশার তুলনায় কম কঠোর অবস্থান নেয়, তবে স্বর্ণের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চড়া মুনাফা, শক্তিশালী ডলার এবং দীর্ঘদিন সুদের হার চড়া থাকার পূর্বাভাসের প্রভাবে চলতি ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমিয়ে এনেছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭ সালে গিয়ে স্বর্ণের বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
একই জরিপে ২০২৬ সালের প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামের পূর্বাভাসও টানা তৃতীয় প্রান্তিকে কমিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক শূন্য চার ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স এক হাজার ৫৩৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে। তবে বিপরীত ধারায় হেঁটে প্যালাডিয়ামের দর শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৭ দশমিক ৮০ ডলারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন