বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
এআই নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইনস্টাগ্রামে এআই ছবি সরানোর নির্দিষ্ট বিকল্প নেই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

ইনস্টাগ্রামে এআই ছবি সরানোর নির্দিষ্ট বিকল্প নেই

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিজের ছবি সরানোর সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আইন না বদলানোয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

মঙ্গলবার এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটের ‘দ্য মেকিং অব আ মডার্ন স্টার’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন এই ভারতীয় অভিনেত্রী।

কৃতি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাস্তব ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নকল ছবির মধ্যকার পার্থক্য বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অবয়বগুলো এখন এতটাই নিখুঁত দেখাচ্ছে যে আসল ও নকলের ব্যবধান ঘুচে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানুষের জীবনে কতটা আগ্রাসী ভূমিকা রাখতে পারে, সে সম্পর্কে বিশ্ববাসী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ফলে ক্ষতিকর দিকগুলো সামাল দিতে দ্রুত আইনি সুরক্ষার কাঠামো তৈরি করা দরকার।

সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম ছবি ছড়ানোর বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

কৃতি অভিযোগ করে বলেন, কোনো ছবি এআই দিয়ে বানানো হয়েছে এবং সেটি কারো ব্যক্তিগত ছবি— কেবল এই কারণ উল্লেখ করে ইনস্টাগ্রামে সরাসরি রিপোর্ট করার কোনো সুনির্দিষ্ট বিকল্প এখনো রাখা হয়নি। প্রযুক্তি প্রতিদিন যে গতিতে এগিয়ে চলছে, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিমালা ও তদারকি ব্যবস্থা সেই তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে।

অভিনেত্রীর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি অবিকল বাস্তবের মতো দেখায়। এতে কোনো ব্যক্তির ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হলে তা ধরা এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব জটিল হয়ে উঠবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিমাত্রায় দ্রুত বৃদ্ধি তাকে আতঙ্কিত করে বলে সরাসরি স্বীকার করেন কৃতি। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি কোনোভাবেই আধুনিক উদ্ভাবন বা প্রযুক্তির অগ্রগতির বিরোধী নন। তবে প্রযুক্তিকে শুধুমাত্র একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, চূড়ান্ত শক্তি হিসেবে নয়। একটি হাতিয়ার যত শক্তিশালী হবে, তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ব্যক্তিগত অধিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান প্রযুক্তি আইন হালনাগাদ করার জোর তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কতদূর যেতে পারে এবং কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষের সার্বিক বোঝাপড়া এখনো অপর্যাপ্ত। অনলাইনে বর্তমানে যা যা ঘটছে, তার অনেক কিছুই রীতিমতো ভীতিজনক রূপ নিচ্ছে।