অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ভারতের নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দেশটির নিজস্ব আঞ্চলিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ যান জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের সাহায্যে নতুন প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ `এনভিএস-০৩` সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করেছে।
একসময় বারবার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যে জিএসএলভি রকেটকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসরোর `দুষ্টু ছেলে` বলে অভিহিত করা হতো, সেই রকেটই এখন মহাকাশযাত্রায় সবচেয়ে ধারাবাহিক নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে শুক্রবার রাতে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হয়।
স্যাটেলাইটটি সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ভারত নির্ভুল সময় গণনা ও নিজস্ব দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার সক্ষমতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ভূয়সী প্রশংসা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভারতের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জড়িয়ে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সঙ্গে।
সেই সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তথ্যের সীমাবদ্ধতার অভিজ্ঞতা থেকে নয়াদিল্লি নিজস্ব অবস্থান নির্ধারণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরবর্তীতে `ন্যাভিক` নামে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
এই প্রযুক্তি ভারতের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে চারপাশে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত নিখুঁত অবস্থান ও সুনির্দিষ্ট সময়ের তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
তবে উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পের চলার পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। অতীতে বিদেশ থেকে আমদানি করা পারমাণবিক ঘড়িতে জটিল ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট অকেজো হয়ে পড়ে এবং পুরো ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়।
সেই সংকট স্থায়ীভাবে দূর করতে এনভিএস-০৩ উপগ্রহে যুক্ত করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভারতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তির স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে দেশটির আত্মনির্ভরশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর পাশাপাশি উপগ্রহটিতে বেসামরিক ব্যবহারের উপযোগী জনপ্রিয় `এল ওয়ান` সংকেত প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই সুবিধা থাকার ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের হাতের স্মার্টফোন, আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা এবং সার্বিক সড়ক পরিবহন অবকাঠামোয় ন্যাভিকের ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
মহাকাশ বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এককভাবে এনভিএস-০৩ হয়তো পুরো নেটওয়ার্কের যাবতীয় সীমাবদ্ধতা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করবে না, তবে বিদেশি নির্ভরতা কাটিয়ে ভারতের নিজস্ব ও সম্পূর্ণ স্বাধীন নেভিগেশন অবকাঠামো সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন