শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

এইচএসসির ফল পাসের হার ১০ বছরে সর্বনিম্ন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

এইচএসসির ফল পাসের হার ১০ বছরে সর্বনিম্ন

ছবি: দিনাজপুর টিভি আর্কাইভ

এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হয়েছে দেশজুড়ে। উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষায় এবার সার্বিক গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বিগত এক দশকের ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই নিম্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে কোনো পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং সেবার পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাস বিবেচনা করা হয়েছিল। এর বাইরে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকে পাসের হার সাধারণত ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশের ঘরে ওঠানামা করেছে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের পরীক্ষায় ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা যায়।

গত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে আসে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে, যার ফলে অনুত্তীর্ণ হয় প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

চলতি বছর বিএনপি সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো। এই ফলাফলে দেখা গেছে, সার্বিক পাসের হার নেমে গিয়ে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিগত বছরগুলোর তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ।

পরের বছর ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে পাস করে ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

মহামারির কারণে ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে পাস করে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে এবং অনলাইনে একযোগে ফল উন্মুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারছেন।