জাহিদ হাসান
অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
শারমিন মাহবুবের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নে, যেখানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন। উপজেলার ৫ নম্বর সুজালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য সদস্য বা মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তের কথা জানান উচ্চশিক্ষিত নারী মোছা. শারমিন মাহবুব। এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়ন, মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন সমাজ বিনির্মাণ এবং এই ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে উপজেলার বড় শীতলাই এলাকায় শারমিন মাহবুবের নিজ বাড়িতে এই উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রামের তিন শতাধিক নারী, পুরুষ ও উদ্যমী তরুণ অংশগ্রহণ করেন। উন্মুক্ত এই আয়োজনে তিনি এলাকার সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, অবহেলিত অবকাঠামোর রূপান্তর, যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার কৌশল এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
গ্রামবাসীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে জানা যায়, শারমিন মাহবুবের নানাবাড়ি বড় শীতলাই এলাকায়।
প্রায় চার বছর আগে তিনি সুজালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়মিত ভোটার তালিকাভুক্ত হন। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর থেকেই তিনি এলাকার প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান (অনার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমন করে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল কায়ুম জানান, বড় শীতলাই এলাকার অসহায় মানুষের যেকোনো মানবিক সংকটে শারমিন মাহবুব ধারাবাহিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে এলাকার প্রায় শতাধিক অসচ্ছল পরিবারের তরুণ-তরুণীর বিবাহ সম্পন্ন করতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন বহু হতদরিদ্র পরিবারের জন্য নতুন বসতবাড়ি নির্মাণেও প্রয়োজনীয় অনুদান নিশ্চিত করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক অভিপ্রায় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন মোছা. শারমিন মাহবুব।
তিনি বলেন, নিছক আনুষ্ঠানিক জনপ্রতিনিধি হওয়া তার মূল লক্ষ্য নয়, বরং সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থেকে স্থায়ী সেবা প্রদান এবং একটি মানবিক পরিবর্তনের সূচনা করাই মূল উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছেন এবং সেই ধারাবাহিকতাকে আরও বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান।
তিনি জানান, নির্বাচনে জনগণের রায় পেলে সরকারি সব বরাদ্দ ও উন্নয়নমূলক অনুদান কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়া সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
তার অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকবে এলাকা থেকে মাদকের অপতৎপরতা সমূলে নির্মূল করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করে গঠনমূলক কাজে যুক্ত করা। পাশাপাশি এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শারমিন মাহবুব আরও বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের শক্তিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি একটি পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
সামাজিক স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আন্তরিক ভালোবাসাই কেবল একটি সুন্দর সমাজ উপহার দিতে পারে। সরকারি অনুদানের শতভাগ সদ্ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী।