অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরের সাদাতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি নজরদারি ফুটেজ সামনে আসার পর গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পথচারীদের সামনেই একে একে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
অভিযুক্ত ত্রিশ বছর বয়সী শুক্লা নামের এক ব্যক্তি প্রথমে পরপর দুটি গুলি চালান। এরপর পিস্তলটি পুনরায় লোড করে আরও তিন রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। গুলির পর তাকে বলতে শোনা যায়, ইট দিয়ে আঘাত করার কারণেই তিনি গুলিবর্ষণ করেছেন।
ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত শুক্লাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত পিস্তলসহ চারটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত ও ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটার দিকে সাদাতগঞ্জ এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা বাধে। একপর্যায়ে মার্চেন্ট নেভির সাবেক নেভিগেশন কর্মকর্তা শুক্লা উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) ও সুয়াশ তিওয়ারি (৩০)।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে দ্রুত কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর ভিত্তিতে হত্যা ও দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত শুক্লাসহ মোট আটজনকে আসামি করে নিয়মিত মামলা ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নথিভুক্ত করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলায় প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। লক্ষ্ণৌ পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনার তরুণ গাউবা ঘটনার সামগ্রিক সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই নির্দেশ দেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নিহতদের একজন লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় বিক্ষোভ দেখা দিলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিহতের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস প্রদান করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন