শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষি অর্থনীতি

সবজির চারা উৎপাদনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোটি টাকার বাণিজ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

সবজির চারা উৎপাদনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোটি টাকার বাণিজ্য

ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুম শুরুর আগেই সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোটি টাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করে সবজি মৌসুম শুরুর আগেই ভালো অঙ্কের অর্থ ঘরে তুলছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে জেলাটিতে প্রায় কোটি টাকার সবজির চারা বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি বীজতলা থেকে সরাসরি এসব চারা কিনছেন বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা। চারার ফলন ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রান্তিক উৎপাদকদের মাঝেও স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বেহাইর গ্রামের মাঠজুড়ে এখন শুধুই নানা জাতের চারার বীজতলা। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর ভাদ্র থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত এই এলাকায় চারা উৎপাদনের ব্যস্ততা থাকে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এসব বীজতলায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন, লাউ ও মরিচসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। চারার মান ভালো হওয়ায় জেলার সীমানা পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও চাষিরা এখানে চারা সংগ্রহ করতে আসছেন।

মাঠপর্যায়ে জাতভেদে চারার দামেও রয়েছে ভিন্নতা।

বর্তমানে প্রতি এক হাজার পিস টমেটোর চারা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। এক হাজার ফুলকপির চারার দাম দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং এক হাজার মরিচের চারা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায়। এছাড়া প্রতি হাজার বেগুনের চারা এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, একই পরিমাণ বাঁধাকপির চারা এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, প্রতি হাজার লাউয়ের চারা ২০ হাজার টাকা এবং ব্রকলির এক হাজার চারা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায়।

চারা উৎপাদনকারী কৃষক ওয়াসিম মিয়া জানান, শীত মৌসুমকে লক্ষ্য রেখেই তারা বীজতলার পরিচর্যা করেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চারার মান বেশ ভালো হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

উন্নত চারা সরাসরি বীজতলা থেকে কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা কৃষকেরাও। আবদুল লতিফ নামের এক ক্রেতা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে তিনি এখান থেকে চারা কিনে জমিতে রোপণ করেন। স্থানীয় সনাতন ও দেশীয় পদ্ধতিতে চারা তৈরি করায় জমিতে রোপণের পর ফলন বেশ ভালো পাওয়া যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা বেগম জানান, প্রতি মৌসুমে এখানে এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চারা কেনাবেচা হয়। চারা উৎপাদনের বিস্তার ঘটাতে এবং কৃষকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ঋণ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: বাসস