অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
ভারী বৃষ্টির কারণে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইন্ডিয়া জোট। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে শুক্রবার বিকেল চারটায় এই বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার কারণে তা স্থগিত করে শনিবার একই সময়ে আয়োজনের যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদলীয় অন্য শীর্ষ নেতাদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানান, জোটের অন্তর্ভুক্ত প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের শারীরিক সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করেই সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দিল্লির অবিরাম বৃষ্টির কারণে আজ কর্মসূচি পালন করা কঠিন হতো, বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের খোলা জায়গায় বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আজকের কর্মসূচি ঠিক একদিন পিছিয়ে আগামীকাল শনিবার বিকেল চারটায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে আয়োজিত রামলীলা ময়দান অভিমুখী পূর্বঘোষিত পদযাত্রায় ভারতের সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।
তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিষ্ঠিত সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস ও দুর্বল করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন।
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে বলেন, তাদের এই দুটি ধারাবাহিক কর্মসূচিই মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলদের দ্বারা ভারতীয় গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল আরও অভিযোগ করেন, রামলীলা ময়দানের গণসমাবেশে যাতে মানুষ পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য আশেপাশের রাজ্যগুলোতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং তেলেঙ্গানা থেকে সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশের পথেই আটকে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানুষকে দিল্লিতে আসা ঠেকাতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে সরকারি এসব বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ঠিক কত বিপুলসংখ্যক মানুষ শেষ পর্যন্ত যোগ দেন, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের বিশাল জনউপস্থিতিই তার সুস্পষ্ট জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রাহুল গান্ধী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন