শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
কূটনৈতিক সাফল্য

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত জাপান সফরের সার্বিক ফলাফল ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এই আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও টোকিওর দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী উপযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য জাপানের আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহায়তা চলমান রাখা এবং এর পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় সম্ভব হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও শিল্প খাতে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশস্ত হয়েছে।

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে টোকিওতে আলোচনা পরিচালনা করেছেন।

সফরে যোগাযোগ ও অবকাঠামো, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক কৃষি, দক্ষ মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে জাপানের দৃঢ় অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের ক্ষেত্রে জাপানের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ বা জনযোগাযোগের সম্ভাবনাও এতে আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

অর্থনৈতিক অর্জনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাপানের পক্ষ থেকে ঘোষিত ছয় দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

এসব বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট খাত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দ্রুতই জাপান থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বা ইকোনমিক মিশন বাংলাদেশে আসবে।

জাপানের সহযোগিতায় চলমান ‘বিগ-বি’ বা বঙ্গোপসাগরীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই বৃহৎ উদ্যোগ নিয়ে টোকিওর সাথে আলোচনার টেবিলে তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র বা পক্ষের বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।

ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই যেকোনো ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনা সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

মাটি ও মানুষের মৌলিক জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ বা অসম্মান করে সরকার কোনো দেশের সাথে কোনো অসম চুক্তি করবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।