অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঐতিহাসিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে এই কার্যক্রমের সূচনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম বাস্তব ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক চুল্লিতে স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর ধারাবাহিক বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে তাপশক্তি উৎপাদিত হবে, যা পরবর্তী সময়ে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই কেন্দ্র।
প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে একাধিক স্তরে জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। সর্বশেষ ‘স্টেজ বি-১’ পর্যায়ের কাজ সফলতার সঙ্গে শেষ করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হওয়া কারিগরি জটিলতাও কাটিয়ে উঠেছেন প্রকৌশলীরা।
এখন শুরু হতে যাচ্ছে ‘স্টেজ বি-২’ পর্যায়ের কার্যক্রম।
এই ধাপে প্রাথমিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুল্লিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্ব, যার মাধ্যমে চুল্লির ভেতরে একটি স্থিতিশীল পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুসারে, ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এরপর সব ধরনের নিরাপত্তা ও গুণগত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে এই বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে।
এদিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।
দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়া থেকে তাজা জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন