অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
সমাজের অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত শিশুদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের ফরহাদাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত এবং পিতামাতাহীন শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। কেন্দ্রটিতে শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক পুনর্বাসন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতেই এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত শিশুদের বিষয়ে মন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব শিশুকে সমাজের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সবার আগে তাদের সঠিক মানসিক প্রেরণা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই ধরনের কার্যকর মোটিভেশন ছাড়া তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা কঠিন। সরকার সেই লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন।
এরপর হলরুমে শিশুদের নিজ হাতে আঁকা দেয়ালিকা ‘আলোকবর্তিকা’র ১২তম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রের বালক-বালিকারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি—বাংলাদেশের নাম’সহ একাধিক গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে।
চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, এই প্রতিষ্ঠানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতামাতাহীন শিশু, পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং প্রতিবন্ধী পরিস্থিতিসহ মোট ১৬ ধরনের শিশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়। এসব শিশুর খাদ্য, বস্ত্র, নিরাপদ বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রটি এ পর্যন্ত মোট দুই হাজার ২৪ জন শিশুকে সমন্বিত সেবা দিয়েছে।
সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে এক হাজার ৩৭৮ জন শিশুকে সফলভাবে সমাজে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়েছে এবং ৫০০ শিশুকে তাদের নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে মোট ২০৪ জন শিশু বসবাস করছে, যার মধ্যে বালকের সংখ্যা ১০০ এবং বালিকা ১০৪ জন। আশ্রিত এসব শিশুর বয়স সর্বনিম্ন ছয় বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন