অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
হাতীবান্ধা সীমান্তে তিনজনকে জখম করা চিতাবাঘের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে চার দিন ধরে টানা অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। দীর্ঘ অভিযান শেষে বাঘটির কোনো হদিস না মেলায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে রাজধানী ঢাকায় ফিরে গেছে দলটি। বাঘটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার বা খাঁচাবন্দী না করেই দলটি ফিরে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকাটিতে এখনো তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে চিতাবাঘের আকস্মিক হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে গৃহপালিত ছাগল খুঁজতে সীমান্ত এলাকার ধানক্ষেতের কাছে যান স্থানীয় নারী শরিফা বেগম। সেখানে ঝোপের মধ্যে ওত পেতে থাকা চিতাবাঘটি হঠাৎ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশ থেকে নজরুল ও আফসার নামের দুই ব্যক্তি ছুটে এলে তাঁদের ওপরও আক্রমণ চালায় ক্ষিপ্ত বাঘটি।
পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জখমের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং খবর দেওয়া হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)। ওই রাতে বাঘটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হয়। ড্রোনের ক্যামেরায় ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে বাঘটির চলাচলের দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়লেও মাঝপথে ড্রোনটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সে রাতের অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।
পরদিন সোমবার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল হাতীবান্ধায় পৌঁছায়।
টানা চার দিন দলটির সদস্যরা আমঝোল সীমান্তের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ঝোপঝাড় ও সম্ভাব্য বিচরণস্থলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান চালান। তবে পুরো এলাকা চষে ফেলেও বাঘটির আর কোনো দৃশ্যমান পদচিহ্ন বা উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।
হাতীবান্ধা উপজেলা বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বিশেষ অনুসন্ধানে আসা বন অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের দলটি চার দিনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে ঢাকায় ফিরে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, আমঝোল সীমান্তে চিতাবাঘ উদ্ধারে ঢাকার বিশেষজ্ঞ দলটি সম্ভাব্য সব এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি যাচাই করেছে। তবে বাঘটির কোনো সন্ধান না পেয়ে দলটি কার্যক্রম শেষ করে ফিরে গেছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তবাসীকে রাতের বেলা সতর্কভাবে চলাফেরা করতে এবং বাঘটির কোনো পায়ের ছাপ বা উপস্থিতি নজরে আসামাত্র উপজেলা প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন